ভাষানী



যাত্রাপথের কাব্য


পথ, তুমি কী ক্লান্ত কাঁদিয়া,বেদনার গাঁথা গেয়ে,
আমায় তবুও শোনাও গো ব্যথা আমি কব শুনে যেয়ে।
সেদিন আকাশে মেঘ করে আছে, জনতার উল্লাস,
আমার বুকের উপরে মরেছে সাড়ে সাত কোটি ঘাস!
তবুও ঘাসেরা মাতিছে হর্ষে,আগুন জ্বলছে জনতায়,
ভাসানী আসবে কাগমারিতে,ভাষন শুনিতে আয় সবাই
মঞ্চে আসিয়া দাঁড়িয়ে ভাষক, করিল উচ্চরাণ,
সামনে আসছে প্রলয়রণ, দিতে হবে বহুপ্রাণ।
পূর্ব বাংলা আসাম লয়া নতুন বঙ্গদেশ,
তবেই ঘুচিবে মোদের দুঃখ দীর্ঘস্থায়ী ক্লেশ!
অনেক দেখেছি আয়ুব জিন্না,লিয়াকত আলী খান,
এবার স্বরাজ আনতেই হবে, এই মোর আহ্বান!
দেখেছি আমরা অরক্ষিত,অসহায় রেখে বঙ্গদেশ,
পাঞ্জাব আসাম বেলুচিস্তান নিয়েই ওদের সব আদেশ।
অনেক সয়েছি বেদনা আমরা,বাঙালী আজিকে মজলুম
পশ্চিমাদের বিদায় জানাই,আসসালামালাইকুম!

হর্ষে উঠিল জনতার স্রোত, জয়োল্লাসে উন্মাতাল,
স্বরাজ আনিতে মানুষর পথে পালিত হইবে হরোতাল!
বিজাতি পশ্চি মানলো না আর, ছুড়িল গ্যস জনতায়,
আসর ওয়াক্ত জননেতা নিজে পথেই জামাত দাঁড়িয়ে যায়!
রাজপথে হলো বৃহৎ জামাত ১লক্ষ মুসলমান,
দেখিল জনতা আল্লাহু আকবার ধ্বনির কত শা'ন।
সরে গেল সব অত্যাচারী, চলল আবার আন্দোলন,
আমার বুকের উপর দিয়েই এলো স্বরাজের শুভক্ষণ।
মানুষের তরে মানুষের প্রেম, অন্যায়ের যে প্রতিবাদ,
সেই দেখে মোর আত্মা কাঁপিছে, পথজীবনের পেয়েছি স্বাদ।
ভাসানী কি তোমার মনেও স্থান করেছিল হে রাজপথ?
ভাষানী ছিল বলেই আজকে দেখেছি দেশের ভবিষ্যৎ!
শেষাবধি সে কেন আসেনি সত্তরের এই নির্বাচনে?
আমি জানি গো, মানুষের ক্ষুধা আঘাত করেছে কোমল মনে!
লাখ লাখ লোক না খেয়ে মরে, ভাসানী হাসপাতাল,
স্যালাইনের নল হাতে নিয়ে তিনি, বিলান রিলিফ চাল!
হায় সেই নেতা, ভোট নাহি চায়, ভাত চায় তার মন,
১ টাকার কুটিরে কেটেছে তার সমগ্র জীবন।
কিভাবে বল সে এইওবস্থায় যাবে ইলেকশনে?
যাদের জন্য দেশ চাই তারা চলিছে মরণ পানে!
তালের একখানা টুপি পড়িত, মোটা লুঙ্গির পাড়,
প্রথম দেখায় মিসকিন ভেবে অনেকে করিত ঠার।
যবেই তাহারা শুনিত তাহার কুরআন তিলাওয়াত,
বলিত ইয়া তো মাওলানা হ্যায়, কিয়া বাত কিয়া বাত!
যখনি শুনিত চৌকশ বাণী, রাজনীতির বয়ান,
বলি, ইয়া এক মস্ত বড়িয়া পলিটিশিয়ান!
ইংরেজ-পাক বিরুদ্ধে যবে উচ্চ করতো বুক,
বলত ওরা এত দেখি এক রাষ্ট্রনায়ক!
এত গুণে যে গো গুনান্বিত,মুছে যাচ্ছে নাম।
তুমি ছোট শিশু, অবলা পথ আমি, তোমাকেই বলিলাম।

নবীনতর পূর্বতন