পাপিয়া

কাওরাইদ গয়েশপুর কলেজের গণিত লেকচারার শামসুল হক স্যার গাছে উঠেছেন। তিনি বাজি ধরে জুতা পড়েই উঠেছেন অনেকটা। 

আমের মৌসুম এখনো শুরু হয়নি। গাছে কাঁচা আম। সুজন,শিপন,শুভন আমরা  আম পাড়লাম।  ভর্তা বানানো হবে। 
কলেজ থেকে সবচেয়ে কাছে যার বাড়ি, মেয়েটির নাম পাপিয়া। সায়েন্স সেকশনের সবচেয়ে রূপবতী এ মেয়েটি সদা হাসিমুখ। কখনোই তাকে মন খারাপ করতে বা অন্য সেকশনের ছেলেদের সাথে আলাপ করতে দেখা যায়নি। 
পাপিয়া আমভর্তার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস, মরিচ,লবন আনলো। সেই সাথে নিয়ে আসলো ১ বাটি পিঁয়াজ কেটে! 
আমভর্তায় পিঁয়াজ! সবাই যখন বিষ্ময় প্রকাশে ব্যস্ত, পাপিয়া অতি স্বাভাবিক স্বরে বললো, ❝ হ্যাঁ! আমভর্তা পিয়াজ ছাড়াও হয় নাকি!❞
---
পাপিয়ার বিয়ে হয়ে গেলো। ইশরাত,ফাতেমারা জিজ্ঞেস করলো, ❝ জামাই কেমন দেখতে?❞
গর্বের সাথে সে বললো, "নায়ক দেবের মতো"
স্বামীকে নিয়ে গর্ব করে, সেই স্বামীর স্ত্রী হিসেবে নিজেকে পরিচিত করে সে। নিশ্চয়ই এটা যেকোন পুরুষের জন্য আরাধ্য। 
---
পাপিয়ার বিবাহবার্ষিক। আমরা সবাই সেটা সেলিব্রেট করলাম। সাথে থাকলো রসায়নের শিক্ষক কামরুল ইসলাম স্যার। সহাস্যবদনে সে ছবি তুললো। 
মফিজুলের nokia N75 এর চমৎকার ক্যামেরা সেগুলো ধারণ করলো। 
সবাই খুবই আনন্দিত। 
---
পাপিয়ার সাথে বহুদিন দেখা নাই। 
হুট করে কাওরাইদ স্টেশনে দেখা হয়ে গেল। ৭ বছরেও তার চেহারার লাস্যময়তা কাটেনি। সাথে ফুটফুটে একটা বাচ্চা। সে চকলেট খাচ্ছে।

এই চটপটে মেয়েটা এভাবে শান্ত হয়ে যাবে,সেটা আমরা কেও ভাবিনি। 
আজ জানলাম, সে কোনদিন আর মৃত্যুবরণ করবে না। সে পেয়েছে অমরত্ব। 

হারকিউলিস বহুকষ্টে চিতায় উঠলেন, তিনি বললেন তার শিষ্যকে, জ্বালিয়ে দাও আমাকে। আমি তোমায় আমার বিজয়ের তলোয়ারটি উপহার দেব। কান্নাজড়িত শিষ্য জ্বালিয়ে দিলেন হারকিউলিসকে। 
স্বর্গের অমরেরা আনন্দে মেতে উঠলেন। আজ সেখানে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বীরের আগমণ হচ্ছে। সে চির অমর হয়ে গেছে!

নবীনতর পূর্বতন