নিয়ন আলোতে পথ চলছি। ঘড়ির কাটা বারোটা ছুইছুই করছে। মেট্রোপলিটন পুলিসের গাড়িগুলো নিঃশব্দে চলে যাচ্ছে। ধানমন্ডি ৩২ নং রোডের বাড়িতে আলো জ্বলছে। সেখানে কয়েকজন পুলিশ আছে পাহাড়ায়।
সামনের লেক থেকে লোকেরা বেরিয়ে যাচ্ছে। অভিসারিকা দর্পনসুরসুন্দরীদের নীড়ে ফেরার সময় হয়েছে। আলিঙ্গন ছেড়ে তারা চলে যাচ্ছে।
প্রধান ফটক পেরুতেই রাস্তা। বামের রাস্তাটি দিয়ে মূল বাড়িটিতে প্রবেশের পথ। সাথেই একটা টেলিফোন কক্ষ। দুতলায় তাকালাম।
আবছা আলোয় দেখা গেলো। দীর্ঘকায় এক বাঙালী। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, ভরাট কন্ঠ,পুরুষ্টু গোঁফ, হাতে একটা হুকোর নল। দাঁড়িয়ে আছেন। পাশের রুম থেকে বের হলেন তাগড়া যুবক।
ভরাট কন্ঠের মানুষটি বললেন,"কামাল,আবাহনীর কথা ভেবেছো?" যুদ্ধ তো শেষ।
হ্যাঁ বাবা। দেশের স্থিতিশীলতা আসুক। দেশে এখনো খেলার পরিবেশ সৃষ্টি হয় নাই।
রাত বাড়ছে। নিয়ন আলোর নরম আভায় আমার চোখ বুজে আসছে। পুরোনো এই শহর কাপড় পালটায়। সাপের মতো সে চিরযৌবনা। খোলস পালটায়, রূপ পালটে রূপবতী হয়। তবে নিজের ঐতিহ্য, আধিপত্যের ইতিহাস সে মুছে ফেলে না।
তাই এই ধুলি আর পারফিউমের শহর। স্বর্ণবালা আর ভূমিকন্যার শহর। হিমেল হাওয়া আর দূষিত বাতাসের শহর। উচ্ছিষ্ট খাবার আর ক্ষুধার্তের শহর। জমকালো বিজলী বাতি আর ঘুটঘুটে আঁধারের শহর। আমোদ আর বেঁচে থাকার শহর।
এ শহর মায়ার শহর।
