ঘুম ভাংলো। সকাল হয়ে গেছে। আলো পড়ছে জানালার কাঁচে। কাঁচ ঝিকমিক করছে। আমি শুয়ে আছি। আমার শরীরে দুটো কম্বল। একটা কম্ফোর্টার। নাতিশীতোষ্ণ ভাব জমেছে।
আমার উঠার কথা ৭ টা চল্লিশ মিনিটে। সাতটা চল্লিশ কী বেজে গেছে?
ঘড়ি দেখা উচিত। ঘড়িটা খুঁযে পাচ্ছি না।
কালো ঘড়ি। টাচ করলেই ভেসে উঠবে সেখানে সময়।
ঘড়ি পাওয়া গেছে। সময় ৭ টা ৫০!
উঠবো? উঠতে মন চাচ্ছে না।
উঠলাম। জ্বলজ্বল করছে সকালের সূর্য।
" ইতি আন্টি?" ডাকলাম আমি। ইতি আন্টি উঠে পড়েছেন। তিনি ঘর গোছাবেন।
মরিয়ম বাইরে বেড়িয়েছে। খুবই স্মার্ট একটি মেয়ে। সুন্দর করে ঘর গুছায় সে। পড়াশোনার ব্যপারেও মনোযোগ বেড়েছে তার।
"মরিয়ম?"
"ভাইয়া"
"পেস্ট দাও।"
সে টুথপেষ্ট নিয়ে এসেছে। সাদা পেপসোডেন্ট।
খাদিজা কলেজে চলে গেছে। উত্তরা হাইস্কুল এন্ড কলেজে সে পড়ে। কলেজের পাশেই একটা চমৎকার পার্ক। পার্কের মাঝখানে এক চমৎকার ফ্লোরাল গেইট আছে। সেখানে লাল সাদা ফুলে সজ্জিত থাকে গেটটি। গেটের পাশেই চন্দ্রবৃক্ষ। সেখানে দাঁড়িয়ে চাঁদ দেখা যায়।
ভোরেই সে বেড়িয়ে গেলো। আমাদের এক সাথে বেড়ুনোর কথা ছিলো। আমি যাব জয়দেবপুর। সেখানে তাজুদ্দিন আহমেদ মেডিক্যালে যেতে হবে। কোহিনূর আন্টি সেখানে আছেন। তিনি অসুস্থ্য।
আমার ঘুম ভাঙলো দেরীতে। যাওয়া হয়নি আমার।
মরিয়মের কাছ থেকে পেপসোডেন্ট নেয়া হলো। আয়নায় আমার মুখ দেখা যাচ্ছে। কিছুদিন হলো চুল কেটেছি। খুব খারাপ লাগছে না। ভালোও না। স্মার্ট ভাবটা আনা হচ্ছে না চেহারায়। আমার বেড়িয়ে যাওয়া উচিত।
সারমিন আন্টি রেডি হচ্ছেন। তিনি যাবেন স্কুলে। তিনি প্রাইমারি স্কুল শিক্ষিকা।
আমি ভাত খাচ্ছি। আমার উপরে একটা বাল্ব জ্বলছে। আলো সাদা। সাদা আলোতে আমি ভাত খাচ্ছি।
মেজো মামা কথা শুরু করলেন, "আরে খাওয়ায় কিসের লজ্জা? খাও।" তিনি আরো ভাত দিলেন।
সারমিন আন্টি চলে গেলেন।
মরিয়মের আজ স্কুল বন্ধ। আমি বেড়িয়েছি। দুঃখী একটা চেহারায় লাবণ্য ভাবী বললেন,"আমাদের জন্য দোয়া করবেন। মিশু আপাকেও বলবেন..."
মরিয়ম আর ইতি আন্টি এগিয়ে আসলেন। আমি রাস্তার পাশে দাঁড়ালাম।
অটো রিক্সাটি বাতাস কেটে কেটে এগিয়ে যাচ্ছে। আকাশে জ্বলজ্বলে রোদ। আস্তে আস্তে ছোট হয়ে যাচ্ছে মরিয়মের বিদায়ী হাত। বাড়ির গেট। পেছনে পড়ে যাচ্ছে মরিয়ম,খাদিজা,মাহিয়া, ইতি আন্টি, সারমিন আন্টি, মেজো মামা....।
----
অটো থামলো উলুখলা। নির্মল কিছু আমগাছের শীতল ছায়ায় এসে দাঁড়িয়েছে এই যান।
প্রকাণ্ড ভেকু আর বুলডোজারগুলো কাজ বিশাল বিশাল রাস্তা নির্মানে ব্যস্ত।
আমি এসে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
"ভাই,মীরাবাড়ি টা কোন দিকে?"
"মীরাবাড়ি?"
পাশের এক লোক বললেন, "মেঘবাড়ি মনে হয়''
তিনি বললেন," রিক্সাওলাকে বলবেন মেঘবাড়ি" কাছেই।
আমি বললাম "না মীরা বাড়ি।"
মিরাবাড়ি কী ভাই?। চিনি নাই। মীরের বাজার হইলে ওই ব্রিজের লাড়ে যান, অটো পাবেন।
অটো পেয়ে গেলাম।
আমার অপজিটে যে নারী বসেছেন, ষাটোর্ধ। চোখ সহ তার শরীরের অনেকাংশ পোড়া। চোখের সাদা অংশ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু চোখের পাতাটি লেপ্টে রয়েছে চামড়ার সাথে। এক চোখে তিনি দেখেন না।
তবুও তিনি খুবই স্বাভাবিকভাবে বললেন,"এইটা নিয়ে আমারে দুইডা ১০ ট্যাকা দেও তো।"
২০ টাকার নোটটা নেওয়া হলো।
-----
ধূলিমলিন পথে অটো চলছে। প্রশস্থ পথ, অট্টালিকা, দিগন্তজোড়া ফসলী জমির কিনারে লেখা, কি যেন একটা পল্লী। একটা স্কুল। নাম বিন্দান প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলটাকে কী বিন্দাস নামেও ডাকা হয়?
----
অটো পালটানো হলো। অটোওয়ালার নাম কাকুল। কাকুল কেন? প্রশ্নটা করা হয়নি।
পথের পাশে আরেকটা স্কুল। ৫০নং ছোট দেওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছোট দেওড়াও যদি ৫০ নম্বর হয়, স্বামীরা তাইলে কয় ভাই? এই প্রশ্ন কী এই আর্টিস্টের মনে হয়নি?
----
হাসপাতালে পৌঁছালাম। খিড়কি দিয়ে ঢুকলাম। লোহার গেট।