সুতায় পেচিয়ে বিশেষ কায়দায় কাঠের বস্তুটিকে ছোঁড়ে দিচ্ছে ওরা। বস্তুর সামনে লোহার ফালি। সেটি মাটিতে আঘাত করা মাত্রই ঘুরছে পৃথিবীর মত।
পৃথিবী যেমন কক্ষপথ আর নিজ কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে ঘুরে, সেটিও তাই করছে। বস্তুর নাম লাটিম।
সে লাটিম ঘুরাতে চায়। তার ইচ্ছা শক্তি প্রবল কিন্ত সে বিদ্যাটা জানে না।
যে লাটিম বিদ্যা শিখতে চাচ্ছে তার নাম তাসিন। ক্রিকেটার। ময়মনসিংহ ক্রিকেট একাডেমির একজন অলরাউন্ডার ব্যাটসম্যান। গ্রামের স্কুলে সে পড়ে। যে গ্রামটি একদিন তিলোত্তমা হবে, সেই গ্রামের স্কুল।
গ্রামের নাম শহীদনগর। গ্রামের বুক চিরে সমান্তরাল রেললাইনটি বয়ে চলেছে। উনিশ শতকের মাঝামাঝি একটা সময়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য যখন বাংলার সম্পদ লুট করে নিজেদেরকে সম্পদে সমৃদ্ধ করছিল, সেই লুট দেখেছে এই গ্রাম। সে প্রতিবাদ করেছে অনেক। সিপাহী যুদ্ধের সিংহপুরুষেরা, যারা অকাতরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে আত্মত্যাগ করেছিল, তাদের আশ্রয় দিয়েছে এই গ্রাম।
৫২ এর ভাষা শহীদ জব্বারের বাড়িটি এ গ্রাম থেকে দূর নয়। ৬৯ এর অভ্যুত্থানে এই গ্রাম নিরব ছিল না।
৭০ এর নির্বাচনে জয়ী গণপরিষদের সদস্য , জাতির পিতার মাওলানা সাহেব এখনো এ গ্রামের জীবন্ত কিংবদন্তী।
৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আব্দুল মান্নানের স্মৃতিতে ভাস্বর এই গ্রাম গুবরী থেকে হয়েছে শহীদনগর।
শহীদ নগর একদিন তিলোত্তমা হবে।
সে লাটিম কিনেছে। লাটিমের রঙ লাল। লাটিম বিদ্যা সে শিখছে একা। সে পড়ছে নবম শ্রেণিতে। নবম শ্রেণির ছাত্ররা একই বই দু বছর পড়ে। সেও তাই করবে।
প্রকৃতি মাঝেমধ্যে মানুষের মনে অদ্ভুত সব শখ জাগিয়ে তুলে, শখ পূরন চাইলেই করা যায়, কিন্তু পরিপার্শ্বিকতার জন্য বিরত থাকতে হয়।
সে বিরত থাকছে না। লাটিমবিদ্যা তার চলছে।
জীবন হলো আনন্দের সাথে কাজ করা আর স্রষ্টার কাছে এই উপহারের কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য।
যেই কর্মস্পৃহা তাকে টেনে নিচ্ছে, ঘুমাতে দিচ্ছে না, সেটির দিকেই সে এগিয়ে যাবে। খেলাচ্ছলে সে সরাবে সেই পথের বাধা।
"পথটা যদি সে খুঁজে পায়, সারা পৃথিবী তার হয়ে তাকে গন্তব্য পাবার জন্য পথ দেখাবে। " - অ্যালকেমিস্ট
পাওলো কোয়েলহো।
তাই, পথটা সে খুঁজছে, হয়ত পেয়েও গেছে। পৃথিবীতে তার সফলতা পাওয়া ছাড়া আর কোন ঘটনাই ঘটতে পারে না।