বিটিএস (কোরীয়: 방탄소년단, উচ্চারণ: বাংতান সোনিয়োন্দান) (যারা বাংতান বয়েজ নামেও পরিচিত) হলো ৭ সদস্যের দক্ষিণ কোরিয়ান বয় ব্যান্ড। এ ৭ সদস্যের ব্যান্ড বিগহিট মিউজিক এর অধীনে ২০১০ সালে ট্রেইনি হিসেবে এবং ২০১৩ সালে টু কুল ফর স্কুল (2 Cool 4 Skool) অ্যালবাম নিয়ে পুরো বিশ্বের সামনে আত্মপ্রকাশ করে। তারা মূলত হিপ হপ সঙ্গীতের গ্রুপ হলেও তাদের গানগুলোতে বিভিন্ন সঙ্গীতের ধরন প্রকাশ পায়। গানের মাধ্যমে তারা সাহিত্য, মনস্তাত্বিক বিষয় এবং নিজেকে ভালোবাসার গুরুত্ব তুলে ধরে।
নিজেদের আত্মপ্রকাশের পর ২০১৪ সালে প্রকাশ করে তাদের প্রথম কোরিয়ান স্টুডিও অ্যালবাম ডার্ক এন্ড ওয়াইল্ড এবং জাপানিজ স্টুডিও অ্যালবাম ওয়েক আপ। তাদের দ্বিতীয় স্টুডিও অ্যালবাম উইংস (২০১৬), ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম, কোরিয়ায় যার ১ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়। ২০১৭ সালে পুরো বিশ্বের সংঙ্গীত জগৎ এ নিজেদের স্থান করে নেয় তারা। লাভ ইয়োরসেল্ফ: হার (২০১৭) আলব্যামটি আলোড়ন শুরু করে পুরো বিশ্বজুড়ে। বিটিএস প্রথম কোরিয়ান গ্রুপ হিসেবে "মাইক ড্রপ" গানটির জন্য রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি এসোসিয়েশন অফ আমেরিকা থেকে সার্টিফিকেট গ্রহণ করে এবং লাভ ইয়োরসেল্ফ: টিয়ার (২০১৮) অ্যালবাম বিলবোর্ড ২০০ চার্টে প্রথম স্থান দখল করে।[১][২]
ইতিহাস
২০১০-২০১৪: গঠন এবং প্রাথমিক বছর
২০১০ সালে বিগ হিট এন্টারটেইনমেন্টের সিইও ব্যাং সি-হিয়ক, আরএম (কিম নামজুন) কে নিয়ে একটি হিপ হপ গ্রুপ গঠন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন; যার ফলশ্রুতিতে বিটিএস গঠিত হয়। সেসময় নামজুন আন্ডারগ্রাউন্ড র্যাপার হিসেবে সিওলের সঙ্গীত অঙ্গনে সুপরিচিত ছিলেন। বিটিএসের মূলত একটি হিপ হপ গ্রুপ হিসেবে পরিচিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, হিপ হপ অ্যালবামের বিক্রি কম হওয়ায় ব্যাং সি-হিয়ক তার পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন।
অ্যালবাম কম বিক্রি হবার ব্যাপারটি থেকে তিনি ধারণা করেন, হিপ হপের দিকে না এগিয়ে
একটু ভিন্ন পথে হাঁটলে হয়তো তা আরও বিপণনযোগ্য ও দর্শকপ্রিয় হবে। তিনি দক্ষিণ
কোরিয়ার গতানুগতিক ও অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক আইডল গ্রুপের ধারণা থেকে বের হয়ে
একটু ভিন্নভাবে বিটিএসকে এমন একটি ব্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন।
যেখানে সদস্যরা একটি গতানুগতিক সমষ্টির অংশ হবার পরিবর্তে ব্যক্তি হবে এবং নিজের
ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে প্রকাশ করার স্বাধীনতা পাবে। [৩][৪] পরের বছর থেকে ব্যান্ড শুরু করার
পরিকল্পনা নিয়ে, ২০১০ সালে অডিশন অনুষ্ঠিত হয়।[৫][৬] অডিশনে নির্বাচিত হবার পর, সেই লক্ষ্যকে
সামনে রেখে, বিটিএস এর ভবিষ্যত সদস্যরা একসাথে একটি ডর্মে বসবাস শুরু করে। ব্যান্ড
হিসেবে অভিষেকের স্বপ্ন নিয়ে তারা দিনে ১৫ ঘন্টা পর্যন্ত অনুশীলন করতো। দীর্ঘ
অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ শেষে, ২০১৩ সালে বিটিএস প্রথম পারফর্ম করে। যা ছিলো, অত্যন্ত
ছোট পরিসরে এবং ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরেরই অল্প কিছু দর্শকের সামনে ।[৭]
ডিস্কোগ্রাফি
কোরিয়ান স্টুডিও এ্যালবামসমূহ
·
ডার্ক অ্যান্ড ওয়াইল্ড
(২০১৪)[৮]
·
উইংস (২০১৬)[৯]
·
লাভ ইওরসেল্ফ: টিয়ার
(২০১৮)[১০]
·
ম্যাপ অব দ্য সোল: ৭
(২০২০)[১১]
·
বি (২০২০)[১২]
জাপানি স্টুডিও এ্যালবামসমূহ
·
ওয়েক আপ (২০১৪)
·
ইউথ (২০১৬)
·
ফেইস ইওরসেল্ফ (২০১৮)
·
ম্যাপ অব দ্য সোল: ৭ –
দ্য জার্নি (২০২০)
কন্সার্ট ট্যুর
·
দ্য রেড বুলেট ট্যুর
(২০১৪–২০১৫)
·
ওয়েক আপ: ওপেন ইওর আইস
জাপান ট্যুর (২০১৫)
·
দ্য মোস্ট বিউটিফুল
মোমেন্ট ইন লাইফ অন স্টেজ ট্যুর (২০১৫–২০১৬)
·
দ্য উইংস ট্যুর (২০১৭)
·
লাভ ইওরসেল্ফ ওয়ার্ল্ড
ট্যুর (২০১৮–২০১৯)