মায়াডাক শোনো


সারাদিন আজ তুমি বন্ধ রেখেছো সকল দরজা।
একটা জানলাও তুমি খুলে রাখোনি আজ !
তুমি আমার কাছে কী প্রমাণ করতে চেয়েছ,
যে তুমিও পারো এমন পাহাড়ের মতো নির্বাক হতে,
 তুমিও পারো বদ্ধঘরের অন্তরালে পাথর প্রতিমা হয়ে অনন্ত:কাল কাটাতে !

সন্ধ্যের আবছা আলোয় ছায়া ছায়া তোমার মুখ ভাসে !
 মাঘশীতের এই জড় সন্ধ্যা নিস্ফলা বৃক্ষের মত
করুণ চোখে তাকিয়ে আছো আমার দিকে ।
অস্বস্তি এড়াতে আমি চোখ রাখি শেকড়ের দিকে ।
শেকড় মানে তোমার অরণ্যতল,
শেকড় মানে কাকভোরে নেমে যাওয়া
কাকচক্ষু জলের অতল ।

সে অতল ছুঁয়ে যে অমৃত তুলে আনি হাতে,
একা সে অমৃত পান করে যাবো এমন স্বার্থপ
স্বর্গের দেবতা আমি এখনও নই !
আমি এখনও আমূল বিঁধে যেতে পারি,
বাঁশের ফলার মতো অরণ্যশরীরে !
দু'হাতের আঁজলায় তোমার মুখে
তুলে দিতে পারি সেই অমৃতরস নির্বিকারে !

পাহাড়ের গভীরে আমি অসংখ্য শিরা উপশিরা খনন করে
অবারিত ঝর্ণা বয়ে দিতে পারি নিমেষে,
মরুভূমির ধূসর বালিয়াড়ি আমি মুহুর্তে করে দিতে পারি
 সুজলা সুফলা সোনার বাংলাদেশ।
অন্ত:পুরের অন্ধকারের সাধ মিটে গেলে
আমাকে জানিও ভ্রূপল্লবের নিবিষ্ট ইশারায়,
তোমাকে আমি অমরাবতী বানিয়ে
নিজেকে অলংকৃত করে রাখবো রাজসিংহাসনে ! 

এইবেলা নয় সব কিছু অপ্রয়োজন ভেবে,
উপেক্ষার ভঙ্গিতে অপেক্ষার ঝুড়িতে রাখি সকল
 সম্ভাবনার ফলবতী বীজ ! চলো,
আজ এই নিশীথের মায়াডাকে সাড়া দিয়ে আপাতত:
দুজনে ভিজতে যাই ফাগুন পূর্ণিমার জোৎস্নাচন্দনে। যাবে আমার সাথে ? 

1 মন্তব্যসমূহ

নবীনতর পূর্বতন