মোমেনশাহী ছাড়ছি। ট্রেনের খোপ খোপ জানালার ওপাশ থেকে গোধুলীর আলো আসছে এখানে।
শত ব্যস্ততাকে নাকচ করে সবুজ আর সায়েম এসেছে স্টেশন। আজ অবশ্য ইচ্ছে ছিলো উপনিবেশিক শাসনের ছাপে ছোপালো এই প্রাচীন শহরে একটা অটো করে পইপই করে ঘুরবো। সেই প্ল্যানই ছিল সবুজের।
ফাহিম এসেছে আমাদের সাথে। কম্পিউটার সায়েন্সে পড়লেও সে জ্ঞানপিপাসু আর মার্ভেলের সিনেমার ভক্ত। তার একটা খাতার উপর লিখা, "I AM IRONMAN "
গত সন্ধ্যায় আমরা মোমেনশাহী যাচ্ছি। আমার সফরসঙ্গী আবু সায়েম। সে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টের একটা ফার্মে আছে। আমাদের বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা। সেজন্যই আসা মোমেনশাহী।
আকাশজোড়া মেঘ জমে আছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতেই শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। স্টেশন নামলাম। স্টেশনে ভেজা চুলে দাঁড়িয়ে আছে আশিক। তার হাতে একটা গিটার। তারা জুনায়েদ ইভানের ভক্ত। টুকটাক গান শিখছে।
সায়েমের খালাতো বোনের সাথে তার দেখা হলো। তার দুলাভাই আমাদের চায়ের নিমন্ত্রন করলেন। তখন বাইরে ঝুম বৃষ্টি। ঝুপ-ঝাপ করে বাতাস কেটে ঝড়ের ঢংয়ে বৃষ্টি হচ্ছে।
আমরা ৪০ মিনিটের মতো পথ দাঁড়িয়ে দৌড়িয়ে এগুচ্ছি। সবুজ আমাদেরকে রিসিভ করার জন্য হোটেলে অপেক্ষা করছে।
আমরা বিদ্যাময়ীর সামনে এসে যাত্রী ছাউমীতে কিছুক্ষন দাঁড়িয়েছি। অজস্ মানুষ। অবশেষ কাকভেজা হয়ে বাসায় ফিরি।
সবুজের বাসায় একটা চমৎকার পকেট ক্যারম। একটা গেইম খেলতে খেলতে ফাহিম চমৎকার রান্না করলো। তৃপ্তিসহকারে রাতের খাবার খেয়ে পরম নিশ্চিন্ত হয়ে ঘুমালাম।
পাশের রুমটা সবুজের ল্যাব বা অফিস। অনেকগুলো কম্পিউটার সেখানে। জায়গাটা অতি পরিপাটি ও সাদা রঙের থিম কালার সেখানে শোভিত।
ফাহিম অ্যানিমেশন শিখছে। একটা সাদাকালো ক্যারেক্টার তৈরী করেছে সে। সেটা অ্যানিমেটেড করলে প্যাটপ্যাট করে মুখ নাড়ে সেটা।
জুমার নামাজের পর বিদায় বেলা। সবুজ, ফাহিম,সায়েম আর আমি। স্টেশন পর্যন্ত তারা আমাদের সাথে আসলো। পরম আতিথেয়তায় আমরা মুগ্ধ হয়েছি। ট্রেনে উঠলো তারা। সিটে বসিয়ে বিদায় দিলো আমাদের।
অতি চমৎকার প্রানবন্ত ভ্রমনের সমাপন হলো।
