সবুজ ফতুয়া পাঞ্জাবি পরা সহাস্য মুখে একজন ব্যক্তিত্ববান স্যার বসে আছেন। মজিদ স্যার। আমার প্রিয় একজন শিক্ষক। তিনি ডাকলেন,"রশিদ, অ্যাই রশিদ!"
রশিদ এসে দাঁড়ালো। পঞ্চাশের কোটা পেরিয়েছে। একটু ভারিক্কি চালে চলে সে। শিক্ষকদের সাথে কথা বলার ক্ষেত্রেও সে ঝোপ বুঝে কোপ দেবার পক্ষপাতী।
"বিল পাঠাইছো?"
"বিল নিয়ে একটু পরেই বের হমু। "
স্কুলের পাশ দিয়ে চমৎকার একটা পিচঢালা পথ। সেটি চলে গেছে জৈনা বাজারের দিকে।
নাইম স্যার দাঁড়িয়ে আছেন স্কুল ক্যান্টিনে। সেখানে ক্যেকটি ছেলে মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারা আইসক্রিম খাচ্ছে।
হাসাহাসি করছে পরস্পর। আকাশে এক ঝাঁক পাখি আকাশ বিহার করছে। এই সময় আকাশে এত পাখি থাকার কথা না। কেন এই পাখিরা এই ছেলেদের মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে? উদ্দেশ্য বুঝা গেল সহসাই!
পাখির হালকা সবুজ বিষ্ঠা অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবীর আকর্ষনে নিচে নামছে। হাস্যরত এক মেয়ের বুকের উপর এসে সেটা লেপ্টে গেল!
হাসি পরিণত হলো লজ্জায়!
স্কুলে টিফিন চলছে। আমরা আছি বাইকে। দুপাশে অসংখ্য শাল আর গজারী গাছের প্রাকৃতিক বন। ভাওয়াল মধুপুরের গড়। লাল মাটির উপর গাঢ় সবুজ বন। বনের ভেতর পাতার মর্মর শব্দ। বাতাসের শোঁ শোঁ আওয়াজ। আমরা কালো পথ দিয়ে সামনে যাচ্ছি।
কাশেমপুর বাজারে এসে দাঁড়িয়ে আছি। ছোট বাজার।অধিকাংশ দোকানঘরই টিনের। কয়েকটি ইটের ঘরও আছে। গেরুয়া ধূসররঙের মাটির দিকে তাকালে একে প্রাচীন বাজার মনে হয়।
একটা টিনের টং দোকানে পুরি,সিঙ্গারা,বুট পাওয়া যায়। আর পাওয়া যায় গুলগুলী। তবে আকারে বড় ও দাম ও বাজারের দ্বিগুন।
হালকা জলখাবার খেলাম।
আকাশ জোড়া মেঘ করেছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ঝুম বৃষ্টি নামবে।

