জল। জলে আকাশের ছায়া পড়েছে। ছায়া নীল। সেখানে লাল নৌকা চলছে। পানি আছড়ে পড়ছে নৌকার ইস্পাতে। ছলাৎ ছলাৎ শব্দ হচ্ছে। শীতল পানিতে পা নামিয়ে বসে আছে সে। তার নাম জাফিন। পায়ে শীত লাগার কথা। সেটা লাগছে না। কেমন যেন একটা সুখ সুখ লাগা শুরু হয়েছে।
উদোম গায়ে খেলছে কয়েকজন শিশু। তারা জলকিনারে এসে দাঁড়িয়ে আছে। চান মাঝির আসনে বসে নৌকার হাল ধরে আছে নাসির। সে ছবিয়াল। ছবি খুঁজছে।
গতকাল। রোমান শুয়ে আছে জলে। ছলাৎ ছলাৎ জলতরঙ্গ বেজে চলেছে। সেই জলের উপর নৌকার গলুইয়ে সে শুয়েছে। গলুইটি বুঝা যাচ্ছে না। সে এক বিরহের গান গাইছে আপন মনে।
নাসির নৌকা ভিড়ালো। উদোম শিশুরা আনন্দ উঠে আসলো নৌকায়। মুক্তোদানার মতো ঝিকমিক করছে জলের ঢেউ খেলানো সকালের জলরাশি।
আনন্দে নেচে উঠলো ভবিষ্যতের কর্ণধারদের ছোট্ট হৃদয়গুলো।
রত্নদ্বীপের মাঝে দু ডানা প্রসারিত করে আনন্দে নেচে উঠলো এই বলাকাদল।
তাদের হাসি মিলিয়ে গেল দখিনা হাওয়ায়। সেখান থেকে স্বর্গের কোন এক ঝর্ণাধারার পাশে।
ব্যথিত হৃদয়ে সেই আনন্দ ফুলঝুরি ছড়ালো।
মনে বেজে উঠলো, " সুখের মতন ব্যথা!"
