আ
কাশে রমজানের চাঁদ।
এবারের রমজান মাসটা শুরু হয়েছে একটু ব্যতিক্রমভাবে। রমজানেরব প্রথম দিনই চাঁদের নিচে শুক্র গ্রহের জ্বলজ্বলে উপস্থিতি। চাঁদটা অনেকের জন্যই ছিল ভয়ের কারণ।
কোন এক হাদীস বা জনশ্রুতি প্রচলিত, যে বছর রমজানের চাঁদের নিচে মহিলাদের অলংকারের মত তারকার উপস্থিতি দেখা যাবে, সে বার অর্ধ রমজানে বিকট আওয়াজ হবে।
উক্ত হাদীসটির কোন উৎস পাওয়া যায় না। জাল হাদিস প্রমাণে অনেক ভিডিয়ো আসলো ইউটিউব, ফেসবুকে।
কিন্তু ১৫ রমজানে বিকট শব্দ হলো। কেঁপে উঠলো বিশ্ব মুসলিমের অন্তর। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বেঁধে গেল কাফিরদের সাথে মুসলিমের। ফিলিস্তিনের আল আকসা মসজিদে তারাবীহ নামায আদায়ে ব্যাস্ত নিরীহ মুসলিম মুসল্লীদের উপর নৃশংসভাবে গুলি চালায় ইসরাইলের কাফির বাহিনী।
বিশ্ব সংবাদ মাধ্যম এই ব্যাপারে সম্পূর্ন নীরব ভূমিকা পালন করে।
ওয়ালিদের জীবনে এই রমজান মাসটা যন্ত্রণাদায়ক। প্রতিদিন তার তীব্র আর্তচিৎকার আমাদের ঘুম ভাঙায়। ইফতারের আনন্দঘন পরিবেশ তার কান্নায় ভারী হয়ে আসে। প্রতিনিয়ত বাঁচার তীব্র আকুতি এই ছোট্ট শিশুর। যার কন্ঠ দেয়ালের ওপাশ থেকে শুরু হয়ে সাত আসমানে দেবদূতদের চোখ ভেজায়।
ডাক্তার রিপোর্ট বলছে তার কিডনী বিকল হয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১৩ গুন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে ইতোমধ্যে!
তাদের একটা নতুন বাড়ি শুরু হয়েছে। এদিকে তার অবস্থার অবনতি হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
দিনে সে প্রায়ই স্বাভাবিক থাকে। গতকাল সে এসেছে যোহরের নামাজ পড়তে। নীল সাদা মিশেলে একটি শার্ট। কালো প্যান্ট পড়ে হাসতে হাসতে সে মসজিদে এসেছে। নামাজ শেষ করে আমরা বাইরে বসলাম।
ইদানীং প্রচণ্ড রোদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়া। কুকুর বিড়াল পানিতে পড়ে যে তাপে, সেই তাপ। বৃষ্টির ছিটেফোঁটা কোন সম্ভাবনা নেই।
বিস্তৃত ফসলের মাঠে এক অদ্ভুত রোগ এসে হানা দিয়েছে। মাঠের পর মাঠ ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে পাকা ধান, আসলে সবই চিটা। এই রহমতের মাসে কৃষকেরা হতভম্ব।
ওয়ালিদ, শরীরটা ভাল লাগে?
- না মামা। অস্থির!
বলতে বলতে আমার হাতটা তার পেটে নিয়ে আমার কোলে শুয়ে পড়ে সে। আমার পেটটা হাতাও মামা।
এবার আমরা লিচু গাছটা কিনেছি। নাসির আর আমি। নাসির কৃষি আর বিভিন্ন নতুন উদ্যোগ নিয়ে আগ্রহী। ব্যাপারটা একটু পাগলামি মনে হলেও, এটাই তারুণ্য, এটাই নতুনদের ধর্ম।
