প্রাণচঞ্চল একটি ছেলে ফিরছে কলেজ থেকে। লম্বা, স্বাস্থ্য ভাল ও কথাবার্তায় কেতাদুরস্ত একটা ভাব।
শিক্ষাজীবন ও কলেজে ভর্তি নিয়ে আলোচনা করতে করতে বন্ধুত্ব হয়ে গেল। এই বন্ধুত্ব আমাদের কলেজ জীবনের পুরোটাই মহা আনন্দে উদ্ভাসিত রেখে চলেছে।
আমরা গয়েশপুর থেকে কাওরাইদ বাজার, কখনো স্কুলমাঠে মেতে উঠছি আড্ডায়, কখনো বা প্ল্যান করছি দুজন মিলে কাকে ঠ্যাঙানো যায়, এই নিয়ে সময় যাচ্ছে।
মাঠের মাঝখানের গাঢ় সবুজ ঘাসে আমরা দুজন বসি। আমার আর তেমন কোন বন্ধু নেই। আমার সাথে কোন ছেলে বা মেয়ে কেউই মিশে না। কথা বলতেও আমার আগ্রহ হয় না,পাছে তারা আবার আমাকে উপহাস করে।
পরবর্তীতে সেটা দূর হয়েছে। বন্ধু জুটে যাচ্ছে সবখানে। কিন্তু সেই অসময়ে এই গুটিকয়েক বন্ধু আমার জীবনে সেই অন্ধকারের সময়টাকে স্বর্ণখচিত দিনে পরিণত করেছে।
অজস্র স্মৃতিময় সেই দিনগুলি আর নেই। জীবন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে মায়াশৃঙ্খল নিয়ে। বাধা পড়ার জন্য অপেক্ষা করছি।
শৃঙ্খলবদ্ধ জীবন টেনে নিচ্ছে তার গোড়ার দিকে। সেখানে শিকল টানছে এক মহারক্ষক, সেখানে সবারই যেতে হয়।
প্রিয় বন্ধু, ভালবাসা নিও।
স্বর্ণখচিত দিনগুলোর একদিন আমার জন্মবার্ষিকী এলো। সকালবেলা লেবুর গন্ধভরা একটি ওয়েট টিস্যুতে মুখ মুছতে মুছতে এগুচ্ছি আমি।
একদল মেয়ে হাসতে হাসতে আসছে দোকানের দিকে। আমি জানি তারা আমাদের ব্যাচের। কিন্তু একজন ছাড়া কারো নামই জানা নেই আমার। যার নাম জানি তার নাম ফাতেমা।
সম্ভবত প্রথম ক্লাস ওরা করে নি। ক্লাস শেষে আমাকে ওরা দিলো জম্নদিনের উপহার। ব্যপারটা ভাল লাগল।
মফিজুলের সাথে এখানে যে মেয়েটির কথা হচ্ছে, তার নাম মিশু। চঞ্চলতাই তার একমাত্র উজ্বল বৈশিষ্ট্য।
তিনদিন পর মফিজুলের কাছ থেকে নাম্বার যোগার করা হলো। আমাদের প্রথম প্রেম। যুগলবন্দী জীবনের সূচনা করে দেয়া সেই প্রিয় বন্ধু আমার মফিজুল।
আমি কৃতজ্ঞ তার প্রতি। সুখী জীবন আমি পেয়েছি। তার দীর্ঘায়ূ কামনা করি।
