উদয়ের জন্মদিনে



উদয়ের জন্মদিনে আকাশ নির্মেঘ। রাতেও ঝুম বৃষ্টি হলো। ঝড়ও হয়েছে। ধ্রাম করে গাছপালা আছড়ে পড়ছে পুকুড়ে।

গাঢ় ঘুমে আমি একটা স্পষ্ট স্বপ্ন দেখলাম। বিকালের শেষাশেষি একটা সময়।
আমি বেড়াতে এসেছি। খুব কাছের কোন মানুষের বাড়িতে। বাড়ির সামনে প্রকাণ্ড দিঘি। দিঘির ঘাট শ্বেতপাথরে বাধাই করা। বাড়িতে চার পাঁচেক কাজের লোক।

একজন লোক এসে জানালো, "ভাইজান, মেমান আইছে"
কে?
এইত্তা কইতারতাম না। কিন্তু নতুন মেমান।

বাড়ির সামনে অনেকটা জুড়ে বাগান। বাগানের ভেতর গোল টেবিলের চারপাশে পাথরের বেঞ্চ। গোল ঘরগুলো লাল টিন দিয়ে ছাওয়া হয়েছে। মেহমান সেখানে বসেছে। হাস্যোজ্জ্বল।

আজ এই বাড়িতে একটা অনুষ্ঠান হবে। অল্প বয়েসি ছেলেটি একটা কেক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার সাথেই বসেছে এই বাড়ির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তার খালা।

নিজের পছন্দে সে এই বাড়ি নির্মাণ করেছে। ইন্টারনেট থেকে সে আয় করছে। দরিদ্রদের সাহায্যের জন্য তার আছে আলাদা তহবিল।


আমরা বাজারে আসলাম। সাথে ইসলামিয়ার দিলিপ কুমার রায়।
রাস্তার কাদা পার হতে হতে তিনি কথা বলেন,
বুঝলা আফজাল, রায় হলো জমিদার উপাধি।

জ্বি স্যার। জমিদার আবার অত্যাচারের উপাধি!


না না। শাসকেরা একটু শাসন করবেই তো। এদের সেই অধিকার তো আছেই।

স্যার, ওরা শোষন করেছে দেশটাকে।

বাজারে মুরগীর দোকান ছাড়া সব বন্ধ। আমরা ফেরত আসলাম।
দূর থেকে দেখা যাচ্ছে বাড়িতে আলো জ্বলছে। মেহমান মিশে উঠেছে সবার সাথে। বাড়িতে চলছে উৎসব। বাড়ির প্রধান মেয়েটি স্কেচশিল্পী। সে ছবি আঁকছে। এই উৎসবের দিন মেহমান আর সে, দুজনেই কিছুটা আনন্দিত।
কেক কাটা হলো।
মেয়েটি তাকে জিজ্ঞেস করলো, "Baby, Make a wish"
শিশুটি হাসিমুখে জিজ্ঞেস করলো "what's love?"
মেয়েটি অশ্রুসজল চোখ মুছলো।

শিশুটি বিড়বিড় করে বললো,
"I know that. it's painful. yet, we had to love. so, we have to cry"

ঘুম ভাঙলো। অনেক কাজ পড়ে আছে। অসমাপ্ত কাজ।

নবীনতর পূর্বতন