ময়মনসিংহ ভ্রমন


০২৩ সালের জুন মাস। এই মাসটি ১৯৪৭ সালের মতো হয়ে এসেছে বাঙালীর জীবনে। এ বছর ময়মনসিংহ অঞ্চলে ধানের ফলন আশংকাজনকভাবে কম। ক্ষেতের পর ক্ষেতে আক্রমন করেছে ব্লাস্ট রোগ। ধানের ক্ষেতে কাঁচি আসে নি এমন ক্ষেতও কম নয়। 
জনগন তীব্র হাপিত্যেশ নিয়ে যাপন করছে জীবন। দেশের রিজার্ভ তলানীতে। ডলারের দাম চড়েছে প্রায় সোয়া গুন। বিশ্ববাজারে টাকার মান নেমে গেছে। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে মানুষ জীবনের প্রতি আশা হারিয়ে ফেলছে।

এ বছরের জুন মাসটা অস্বাভাবিক গরম। এই তীব্র দাবদাহ বাঙালীর কাছে সম্পূর্ণ অভিনব।  এই বিপজ্জনক তাপমাত্রায় এই ভুখণ্ডের কোন প্রানী পরিচিত নয়। জলাধারের পানি তপ্ত হয়ে যেন টগবগ করে ফুটছে। পানিতে হাত দিলে ফুস্কা পড়ে যায়। স্কুলগুলোতে ক্লাসে শিশুরা তাপদাহে অজ্ঞান হয়ে যায়। 
প্রায় সারাদিনই চলে লাগামহীন লোডশেডিং।  কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বকেয়া টাকা অপরিশোধিত।  তাই বিদ্যুতের উৎপাদন কমে গেছে কয়েক ভাগ। এই কাকমরা রোদ্রের সাথে লোডশেডিং এই বছরটিকে আরো চ্যালেঞ্জিং করে তুলছে। 

১৯৪৭ সালটি আবার ফিরে আসছে? সেই সালে দেশভাগ হলো।একটি রক্তক্ষয়ী সংঘাত দেখেছিল উপমহাদেশ। এবারও কোন যুগান্তকারী ঘটনার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই রুষ্ট প্রকৃতি?
মোমেনশাহী যাচ্ছি। রোদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়া। আমার সামনে কালো কালিতে একটি লেখা।গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন।  লেখাটি আছে সাদা পটভূমিতে। পটভূমিটি কংক্রিটের। স্থানে স্থানে গর্ত হয়ে আছে। গর্তের উপর ভাল করে রঙ লাগে নি। 
স্টেশনটি পুনর্বিন্যাস্ত ও সম্প্রসারিত।
 আমি অপেক্ষা করছি। আমার অপেক্ষার প্রহর শেষ করতে উত্তরে ধেয়ে আসছে তিস্তা এক্সপ্রেস।ট্রেন ভ্রমনের টোকেন কাটার জন্য দাঁড়ালাম ঝুপড়ি জানালার সামনে।  সিট পাওয়া যাবে না। 

"টিকিট লাগবে কারো?" এক ভদ্রলোক ডাকলেন।লোকের নাম তানবীর পাঠান। তিনি ৫ টা সিট কেটেছিলেন অনলাইনে। অত যাত্রী যাচ্ছে না। টিকিট কেনা হলো। ট্রেন আসছে না। স্টেশনে বসার জন্য স্থান খুঁজছি। তানবীর পাঠান দাঁড়িয়ে আছে। তার সাথে পরমা সুন্দরী এক নারী। পক্ক দাড়িম্ব বীজের মতো সুক্ষ্ম শিখরযুক্ত তার দাঁত। মাঝারি উচ্চতার উজ্জ্বল ফর্সা নারীটি পড়ে আছে পিঠখোলা পোশাক। 
ট্রেন আসছে। আমি সবুজকে ফোন দিলাম। মেসেজ পাঠালাম ফাহিমের কাছে।
তারা আছে মোমেনশাহী শহরে। 


আমি মোমেনশাহী যাচ্ছি। ট্রেনের নাম তিস্তা। আমি সিট পেয়েছি। যিনি আমার কাছে টিকিট বিক্রি করেছেন, তার নাম তানবীর দেওয়ান। আসন নম্বর ৫। জানালার পাশের সিট। আমার সিটে একজন গর্ভধারণকারী মা বসেছেন। তবুও আমি জানালাম তাকে এই সিটের কথা। তিনি ১০ নম্বর সিটে বসতে বললেন। আমি বসে আছি ১০ নম্বর সিটে। 
জানালার ওপাশে মোমেনশাহী আর প্রাচীন বাংলার ব্যথিত ফসলী জমিরা ছেড়ে যাচ্ছে ট্রেনটিকে। 
রোদ্রে খাঁ খাঁ করা ফসলের মাঠ। ফেটে যাওয়া মাটির পথ। ঝলসানো আর নুয়ে পড়া গাছের পাতা৷ একটা সাদা গরু দড়ি ছেড়ার চেষ্টা করে পালাতে চাইছে।
একটা ভাঙা স্কুল। সেখানে খড় শুকানো হচ্ছে। ৩ জন মহিলা ধানকাজ করছেন। একজন ভারী সুন্দরী। সে ঢং করছে। পায়ে  নুপুর ও আলতা। অতি ফর্সা মেয়েটি ঢং ধরেছে। মাঝবয়েসী মহিলাটি এবার রাগ করে উঠলেন,"মাগির ছিনালী দেখতাছি খালি!"
মেয়েটি ফিক করে হেসে দৌড় দিলো।

সবুজ আছে আকুয়া ওয়ারলেস গেট। ফাহিমও সেখানে আজ। আজ বিকালে আমরা শহর দেখবো। যথাসম্ভব কিছু অজানা ইতিহাসের খোঁজের আমাদের এই আয়োজন। 

নবীনতর পূর্বতন