মহামারীর দিনগুলো

তড়িঘড়ি করে ঘুম থেকে উঠেই দেখি রোমান বসে আছে। ঘন্টাখানিক পড়লাম আমরা। সকালবেলাই চড়া রোদ।
ঝর্ণা খানম আজ রোজা রেখেছেন। আমাদের পরিবারে তিনিই একমাত্র মহিলা। তিনি রোজা থেকেই কঠোর পরিশ্রম করছেন।
সকালের নাস্তায় পরিবারের একজন সদস্য না বসলে আমার পেট ভরে না।
আমি ডাকলাম, "আম্মা তুমিও এসে পড়ো।"
"তোমরা খাও। আমি রোজা"
মুরগীর বাচ্চা, তেলাপিয়া, পাটশাকের সাথে তেলে ভাজা শুকনো মরিচ।

দুপুরে ৩ কিলোমিটার হেঁটে বাজারে গেলাম। করোনাভাইরাস উপলক্ষ্যে রাস্তার পিচ সুর্যের তাপে রোষে উঠছে। সেই রোষানল দগ্ধ করছে পথিকদের। আমি পথিক।
বাজার নিয়ে আবার বাড়ি ফিরলাম ঘেমে। প্রখর রোদ্রতাপে রাস্তার পিচ ও গলার উপক্রম।

রেলগাড়ি বলে যে একটা জিনিস ছিল সেটা ভুলেই গেছি। রেলে বিস্তর মরিচা পড়ছে এখানে।

ঈদানিং সরকারের আদেশে ৫ জন করে জামাত হচ্ছে। প্রতি ওয়াক্তেই একাধিক জামাত হচ্ছে। আসরের নামাজ পড়লাম ২য় জামাতে।

রাত হলো। আজ পবিত্র শবে বরাতের রাত। ফিনিকফোঁটা জোসনা ফুটেছে। গৃহত্যাগী জ্যোৎস্না। আমি এই গ্রহের সৌন্দর্য দেখে অবাক হচ্ছি।

নবীনতর পূর্বতন