প্রিয় হতাশা,
আশা করি তোমার বাবা, মা এবং বড় বোন আশাকে নিয়ে ভালোই আছো।
গত চিঠিতে আমার সাথে আশার সম্পর্ক নিয়ে জানতে চেয়েছিলে ! তাই লিখতে বসলাম।
জানো হতাশা, ঢাকায় অল্প-স্বল্প ভালোই শীত পড়েছে। গতবার শীতে যখন আশার কথা ভাবছিলাম তখন হঠাৎ করেই বড় ভাইয়ের বিবাহের দিন ধার্য হলো। বড় ভাইয়ের বিবাহ হলো আর আমার বিবাহের আশা ভেস্তে গেলো।
তুমি এসে ভালোই সাপোর্ট দিয়েছিলে। দিন পনের তোমার সাথে থেকে আশার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। আশা প্রচন্ড রাগ করে বলেছিল, আমার কথা ভাববে কেন ? হতাশাকে নিয়েই থাকো। ওকেই বিয়ে করো।
তোমার বড়র কথা শুনে আমার খুব হাসি পেয়েছিল। আশার সে কি বোকামি বোকামি কথা ! তুমি তার তুলনায় কত ছোট। অথচ তোমাকে নিয়েই তার সন্দেহ।
এরপরের কাহিনীটা শোনো।
আমি তখন সেকেন্ড ইয়ার ফাইনালের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তা শুনে তুমি কত খুশী হয়ে ঢাকায় এলে। আমাকে কী সাপোর্টটাই না দিয়েছিলে তখন। আমার পরীক্ষার পুরো সময়টা পাশে থেকে আশার কথা পুরোপুরি ভুলিয়েই দিয়ে ছিলে। পরীক্ষার সময়টাতে তার সাথে একদম কথা হয়নি তাতো তুমি জানোই। কিন্তু তার আবার সন্দেহ হলো..আমি নাকি পরীক্ষার প্রিপারেশন না নিয়ে তোমাকে নিয়েই পড়ে থাকতাম। সারাক্ষণ তোমাকে নিয়েই ভেবেছি, এটা নাকি আমার বন্ধু নিরাশের কাছ থেকে শুনেছে। এ নিয়ে দুজনের মাঝে শুরু হলো অভিমান পর্বের।
অভিমান করে তার কথা মনে করতে চাইতাম না। সেও আমাকে এড়িয়ে চলতো। এভাবে ধীরে ধীরে আশা আর আমার মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হলো। এদিকে আশা নিরাশের পথে ভালোই এগিয়েছে বলে শুনেছি।
তারপরেরটুকুতো তুমি জানো ৷ তাও বলছি। পরীক্ষার রেজাল্টের পর আমি শুধু তোমার কথাই ভেবেছি। আমি তোমাতে আপন হতে চেয়েছি। একবারের জন্যও আশার কথা ভাবিানি। বিশ্বাস করো তুমি, তুমি "হতাশা" ছাড়া অন্য কোনকিছুই এখন আর আমার ভাবনায় আসে না। আমি তোমার পথেই বাকী জীবন ধরে হাঁটতে চাই। আমি তোমাতেই সুখী হতে চাই।
ইতি,
তোমার অমরসঙ্গী।
০৫/০১/২০১৭