নূহাশপল্লী


সবুজ রবিন তাসিন আর আমি। যাচ্ছি নুহাশপল্লী। আজ হুমায়ূন আহমেদের ৭০ তম জন্মদিন। সে উপলক্ষ্যে সেখানে আজ প্রবেশমূল্য ছাড়াই যাওয়া যাচ্ছে । হুমায়ূন সাহিত্যের প্রতি ঝোঁক, নৈসর্গের অপরূপ অবলোকন ,সেলিব্রেটিদের সাক্ষাৎ আর সবাই মিলে বেড়িয়ে আসার জন্য আমরা যাত্রা শুরু করি। নুহাশপল্লী, এখানে চির নিদ্রায় শায়িত আছেন নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ। আজ এখানে একটা ভাস্কর্য প্রদর্শনী হচ্ছে। ভাস্কর আসাদ খান তৃতীয়বারের মত এই প্রদর্শনী করছেন। সেই প্রদর্শনী দেখতেও যাচ্ছি আমরা।
সবুজের ঘুম ভাঙ্গল দেরিতে।
ট্রেন করলো আরো দেরি। রবিন যাচ্ছে গাজীপুর। একটা জটিল বিষয় নিয়ে সে পড়ছে বিপাকে। শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না। সে আজ যাচ্ছে শিক্ষকের খুঁজে। সে এইমাত্র জেনেছে হুমায়ুন আহমেদ স্যার এর জন্মদিন। সিদ্ধান্ত পরিবরতন করছে সে।
এইট ডাউন এল ১০ টার অনেক পর। সাতখামাইর এসে আমার প্রিয় পাদুকার একজন পা ফস্কে পরে গেল ট্রেনের নিচে। দ্বিতীয় জুতো ও ফেলে দিলাম।
জুতা কিনলাম। রাস্তায় সবুজ শেখ করলো এক অদ্ভুত কাণ্ড! জুতাজোড়া বগলতলা করে সে পথ চলছে। রাস্তায় মানুষ তাকে দেখছে। তার পিছনে ছবি তুলছে এক ডি এস এল আর ওয়ালা। ছেলেটির নাম তাসিন। (ছবি তুলে সে প্রশংসা কুড়ায়। আত্মবিশ্বাসী আর ফটোগ্রাফির প্রতি প্রচণ্ড ঝুঁক তাকে পুলিৎজার এর স্বপ্ন


দেখায় ।
আমরা অটো রিকশা নিলাম। রিকশাওয়ালার নাম ইসমাইল। বয়স ২৫ কি ২৭ বছর হবে। বাড়ি তার ভাংনাহাটি। আমার কথায় রিকশা দাড় করা হলো ভাংনাহাতি। সাত্তার সাহেব এর সুরম্য মসজিদ দেখে প্রাণ জুড়ালাম।
রবিন দাড়িয়ে আছে। বিভিন্ন ভঙ্গিতে। অল্পক্ষণ পর পর তার ছবি তুলা হচ্ছে।
ছবি দেখেই সে বলে উঠল ।
Wow! সেই না ছবিটা?
হুম । অনেক সুন্দর । আমরাও সায় দেই।
নুহাশপল্লীতে পৌঁছলাম 12 টায়। লোক সমাগম ভালই হোয়েছে। প্রচুর হলুদ হিমু আর দু জন কাল RAB । হলুদ হিমুদের অধিকাংশই বাচ্চা হিমু। তারা বসে আছে বৃক্ষগৃহে। তাদের অপরূপ সুন্দরী মায়েরা তাদের আশেপাশে দাঁড়িয়ে আছে মিহি কাপড় পরে। অধিকাংশ মায়েদের কাপড়ের রং কালো। হঠাৎ মায়েরা কালো কাপড় পরছেন কেন বুঝে উঠতে পারলাম না। এখানে একটা চমৎকার জন্মদিনের অনুষ্ঠান হচ্ছে। সব হিমুরা সেখানে অংশগ্রহণ করছে।
যে জিনিসটা আমাদের সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে সেটা হলো যুগলবন্দী মানুষ । অজস্র অবিবাহিত যুগল সেখানে পাখির মত বিচরন করছে। দাঁড়িয়ে দোল খাচ্ছে দুলনায়।
আমরা দেখছি। ক্যামেরার ব্যাটারি কমে আসছে। আমরা আছি বৃষ্টিবিলাস এ। এটি এখন অতিথিশালা। বিশ্রাম নিতে পারেন এখানে অতিথিরা।
শিল্পী আসাদ খানের প্রদর্শনী হচ্ছে এখানেই। দেখা হলো তার সাথেও। ছবি তুললাম। ক্যামেরাম্যান তাসিন। যুগলদের জন্য স্পেশাল ভাবে তৈরি হয়েছে নুহাশ।
আমরা আফ্রোদিতির ঝুড়ি মূর্তির সাথে মজা করে ছবি তুললাম। সবুজ চেপে দিল ওর গলা! এক খন্ড প্রাণহীন কাঠে মানুষের মৃত অবয়ব।
দীঘি লীলাবতীর পারে তাসিনের ছবি। এখানে আমরা গিতারিস্টদের সাথে ধরলাম গান।
হুমায়ূন আহমেদ এর প্রতিকৃতির সাথে ছবি নেয়া হলো। সবুজ পরলো ডাইনোসরের কবলে। তাসিন তার ছবি তুলে জানান দিল। সবুজ আছে ঘোর বিপদে!
সমাধি দর্শন পর্বে ক্যামেরার চার্জ শূন্য। কবরের এপিতাফে লিখা আছে
"চরন ধরিতে দিয়োগো আমারে , নিওনা নিওনা সরায়ে।"
শিউলি ফুলের বেদীতে বসলাম। আন্টির গান শুনে বিমোহিত সবুজ আর রবিন উচ্চ প্রশংসা করল।
মেহের আফরোজ শাওন এসেছিল সকালে। তিনি আসবেন রাতেও।
দাবাঘরে দাবা খেলছে কিছু লোক।
ছবি তুললাম।
আমাদের ভ্রমণ সমাপ্ত হল।
নবীনতর পূর্বতন