৮.৪৯ এ যাত্রা হলো শুরু। একটি মেরুন রঙা বাস। একই বাসে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। পিছনে একটা বক্স বেজে চলেছে। ৮.৫১ মিনিটে বাস একটু থেমে আছে। পদক্ষেপ অফিসের সামনে। অপ্রশস্ত রাস্তা বলে এটা হচ্ছে। আজ আমাদের সফরসঙ্গী হচ্ছেন না, আরিফ স্যার, খান স্যার।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাচ্ছে না, সানজিদা,আয়েশা,আফরিন।
আমরা আছি ব্রীজে। এখন ৮.৫৪ বাজে। গান বাজছে, বাইন্ধা রাখো দয়াল...
একটা মনিটরে গান চলছে। মেয়েরা বসেছে সামনে। শান্ত ও স্বাভাবিক। চিত্রায়নের মোড়ে বাস থেমে আছে।
কাওরাইদের বাজার থেকে বের হতে সময় লাগছে। মণ্ডল মার্কেটের মোড়ে একটা হলুদ রঙা ট্রাক রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় গাড়ি একটা ঝাঁকি দিতেই ছেলেরা হো দিয়ে উঠলো।
সময় ৯.০৭৷
আমরা আছি কালী বাড়ি অশ্বত্থ গাছের নিচে। বাস গতিতে উঠে গেছে। পিছনে পড়ে যাচ্ছে কালী নারায়ন স্কুল। সুতিয়া নদীর পাড় ঘেঁষে বাস এগিয়ে চলছে। মৃদুমন্দ বাতাসে দোলছে হৃদয়। হালকা বাতাস বইছে। বাসন্তী হাওয়া। ঋতুরাজের আগমন উপভোগ্য হয়ে উঠছে।
একপার্শ্বে ফসলের ক্ষেত,গৃহস্থ বাড়ি,উপাসনালয়। মাটির ঘরে নকশা করা সূর্যের আলোতে এক স্বর্গীয় দৃষ্যের জন্ম দিচ্ছে। দিহান গাইছে, প্রান বন্ধু আর আসবে কি গো...
এখন আমরা আছি বৈরাগবাড়ি। ৯.১৬। গাড়ি মোড় নিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। গতি জড়তার কারনে মাঝে মাঝেই সিটে চাপ পড়ছে।
গান পরিবর্তন হয়েছে।
আমরা বরমীর কাছাকাছি আছি। দুপাশে গৃহস্থ বাড়ি,খড়ের গাদা,বাঁশঝাড়, শীতলক্ষ্যা নদীর সুতা।
৯.২২.
বাস বরমী বাজারে। এখান থেকে খাবার নেয়ার কথা। নেয়া হলো আরো কিছু সামনে থেকে। এখন পর্যন্ত সবাই ঠিক আছে।
৯.৪৭ মিনিটে বাস হার্ড ব্রেক কষলো। ডান পাশে একটা LPG এর গাড়ি, বাজে ভাবে ঢুকে পড়েছে সরু রাস্তায়।
৯.৫৫। বাস খুব অ্যারোগেন্টলি একটা বাঁক নেয়। এতে পিছনের ডান্সিং ছেলেরা সামনের দিকে পড়ে। উঠেই আবার আনন্দে বলে উঠে, সেই মামা। বাংলা ট্রাক।!
বাস খুব smoothly এগিয়ে যাচ্ছে। নারয়নপুর এলাকা পার হচ্ছে বাস। বড় একটা বাঁশঝাড় পেরিয়ে জান্নাত টেলিকম পার হয়ে বাস একটা নতুন রোডে উঠলো।
১০.০৮ মিনিটে আমরা কাপাসিয়া পল্লী বিদ্যুতের অফিসের সামনে। অসাধারন নান্দনিকতায় সাজানো অফিসখানা।
১০.২০
চাকৈল প্রাইমারি স্কুল, টেক টিলা, অজপাড়াগাঁর মাঝ দিয়ে নি:শব্দে এগিয়ে যাচ্ছে বাস।
গান ছাড়িস না কিয়া?
চেচিঁয়া উঠলো আরমান।
ভাঙা ভাঙা আওযাজে গান বাজলো, তেরি লাচ্ছি...
১০.২৫ মিনিটে বাস লাফিয়ে উঠলো অনেকটা স্পঞ্জ বলের মত। সামনেই চাঁদপুর বাজার। গাড়ি স্লো হয়ে আসলো। বাজারে একটা হোটেলের নাম, সকাল সন্ধ্যা হোটেল। সেখানে সাদা গেঞ্জি পরিহিত এক ছেলে ডিম ভাজার জন্য ডিম গোলাচ্ছে। ভাওয়াল স্কুলের প্রশস্ত শহীদ মিনার পার হতেই বাস আরেকটি লাফ দিলো।
আমার পাশে বসেছে হাসান। সে ফ্রিফায়ার খেলছে। আনন্দ বা বেদনা কিছুই তাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে না। ওবায়দুলকে ডেকে ছবি তুলে নিলো জামান ও মামুন স্যার।
কালীগঞ্জ বাজারে যখন এলাম, ১০.৩৫ বাজে। তিনজন মেয়ে ও ১০ জন ছেলে শিক্ষার্থী রাস্তায় আমাদের বাসের দিকে তাকিয়ে আছে। আশিক ও কয়েজন ছেলে দৃষ্টি বিনিময় করলো।
১০.৩৭ মিনিটে বাস যাত্রা বিরতি নিচ্ছে একটা জঙ্গম স্থানে। শরীরের নাইট্রোজেনগঠিত যৌগ তরলাকারে বের করার জন্য এই বিরতি।
১০.৪২ মিনিটে যাত্রা শুরু করেছে বাস।
মিথিলা ও দু এক জন বমি করা ছাড়া কোন বিশেষ ঘটনা নেই।
গাজিপুরের জঙ্গম এলাকা পার হচ্ছি। টেক টিলার পাশে ধানের জমি। গজারী বনের পাশে ফসলের ক্ষেত। বড় বড় ধূসর সেগুন পাতা বনের পথকে প্রাচীন পথের মতো রূপে রূপায়িত করেছে।
ডান পাশের একটা জলাশয় শুকানো হয়েছে। সেখানে দুজন কিশোর কাদায় লুটোপুটি খাচ্ছে। রোদে তার পিঠে কাদা চটচট করছে।
১০.৫৪ নরসিংদী শহরের বড় ব্রীজ, সম্ভবত ঘোড়াশাল ব্রিজ। নরসিংদী একটি অপরূপ সুন্দর জেলা। আমরা এসেছি চরসুন্দর এলাকায়।
কলাবাগান , ঘাসের ক্ষেত, ভূট্টা গাছ,জাম্বু ঘাস, লালক্ষেত। দিগন্তজোড়া কলার বাগান চোখে পড়ছে। দু একজন কৃষক কাজ করছে মাঠে।
একটি বেড়া দেওয়া কবর। বাঁশঝাড়,নতুন তৈরীকৃত দোকান। অসাধারণ একটি নার্সারি।
১১.১০ ইটাখোলা বাজার, নরসিংদী।
সড়ক বিভাগে কর্মরত দুটি সেনাবাহিনীর ট্রাক আমাদের বাসকে আড়াআড়িভাবে পার হওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা চেচিয়ে বললো, মনিটর নাই, স্কিল নাই, AK 47.
জ্বলজ্বলে রোদ নরসিংদির আকাশে।
১১.১৬
নরসিংদীর কেন্দ্রে মুঘল ঢংয়ে নির্মাণ করা হয়েছে একটি কমলা ইটের মসজিদ।
11.26 নরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল। পাশেই কাদের মোল্লা সিটি কলেজ। জমকালো ভবনগুলো কোন সৌখিন মানুষের শখ মিশিয়ে নির্মান করা হয়েছে।
সাহেবপ্রতাপের মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে বাস। সামনে জ্যাম। রোডক্রস। অনিক,নিউলাইন বাস চলছে রাস্তায়।
বঙ্গবন্ধুর বিশাল আবক্ষ মূর্তির ছিল এই মোড়ে। খুব বাজেভাবে ভেঙে সেখানে মুড়ে দেয়া হয়েছে জিয়ার সৈনিকদের সহাস্যমুখী ব্যানার।
আজাদ ফিলিং স্টেশনের সামনে একটা বিলবোর্ড। সেখানে Mr. White লেখা একটা প্যাকেট হাতে দাঁড়িয়ে আছে আফরান নিশো। ৬০ ফিট বাই ৪০ ফিটের সেই বিলবোর্ডে সে দাঁড়িয়ে আছে ২ ফিট লম্বা এক ঘড়ি হাতে দিয়ে।
১১.৪২ বাগহাটা স্কুল ও মাদরাসা পার হলাম। সামনেই শীলমান্দী ইউনিয়ন পরিষদ।
১১.৪৭ এ পার হলাম। মমটেক্স টেক্সটাইল মিল। পাশের জলাশয়ে তারা নিষ্কাশন করছে পরিশোধিত পানি।
১১.৪৯ এ পাঁচদোনা মোড়। খুব কাছাকাছি আছি। অবশেষে ড্রিম হলিডের দিকে আছি। রোদ।
